২৮শে নভেম্বর বিজওয়াসনে কর্মসূচির উদ্যোক্তাদের স্থাপিত শিবিরে বিভিন্ন রাজ্যের কৃষকরা সমবেত হচ্ছিলেন। শহর জুড়ে যে বেশ কয়েকটি শিবির স্থাপন করা হয়েছিল বিজওয়াসন ক্যাম্প তারই একটি। ২৯শে নভেম্বর, হাজার হাজার মানুষ একত্রিত হয়ে রামলীলা ময়দানের দিকে অগ্রসর হলেন। এই দুই দিনের কিছু মুহূর্ত:

দলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি মিছিল চলাকালীন যেসব সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন সে বিষয়ে কৃষকদের অবহিত করছেন এবং জরুরি অবস্থায় যোগাযোগের জন্য প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর দিচ্ছেন

নাগৌর জেলার এবং ব্লকের কৃষকরা জানাচ্ছেন বোরওয়েলে যে জল ওঠে তা এতটাই লবণাক্ত যে তাতে মোটেই চাষাবাদ সম্ভব নয়। জমি আর ফসল দুই-ই তাতে নষ্ট হয়। তাঁরা বলছেন, তাঁদের গ্রামে এমন ভয়াবহ জলকষ্ট যে বর্ষার চার মাস বাদে বাকি সময়টা সকলেই খেতমজুরের কাজ নিতে বাধ্য হন । নাগৌর তেহসিলের যোধিয়াসি গ্রামের ৭৫ বছরের বৃদ্ধ চাষি সুরধন সিংয়ের কথায়, “আমায় এখন আর কেউ শ্রমিক বা খেতমজুরের কাজে নিতে চায় না বুড়ো হয়েছি বলে। গান গেয়ে নিজের দুর্দশার কথা জানানো ছাড়া আর কিছুই আমি করতে পারি না এখন।”

রাজস্থানের নাগৌর জেলার কৃষকেরা তাঁদের ঐয়তিহ্যশালী সংগীত পরিবেশন করার জন্য প্রস্তুত।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বহু কৃষিজীবী পিতামাতাদের সঙ্গে এসেছে তাঁদের ছোটো সন্তানেরাও।

পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ এলাকা থেকে আগত কৃষকেরা রামলীলা ময়দানের দিকে মিছিল করে অগ্রসর হচ্ছেন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর - ২ ব্লকের সোনাটিকরি গ্রামের ২২ বছর বয়সী রিঙ্কু হালদার , শৈশব থেকেই পোলিও আক্রান্ত। নিজের কৃষিজীবী পরিবারের জন্য লড়াইয়ে সামিল প্রত্যয়ী রিঙ্কু বলেন , “আমি কৃষকদের পুরোপুরি সমর্থন করি। এই এতদূর দিল্লি পর্যন্ত আমি এসেছি যাতে সরকার আমাদের পরিস্থিতির প্রতি মনোযোগী হয়। কীটনাশক ও বিদ্যুতের খরচ বাড়ছে , কাজেই ফলন ভাল হলেও আমাদের লাভ থাকে না । কলকাতায় আপনি বেশি দাম দিয়ে ফসল [ধান] কিনছেন , কিন্তু গ্রামে আমরা মোটেই ন্যায্য দর পাই না । ”

মিছিলে হাঁটতে হাঁটতে পশ্চিমবঙ্গের একজন কৃষক ঐয়তিহ্যশালী গান গাইছেন।

হরিয়ানার মেওয়াত জেলার তাউরু ব্লকের কৃষকদের অভিযোগ বিদ্যুৎ সরবরাহ ঘিরে - প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে ভোর ৫ টা পর্যন্ত মাত্র ছয় ঘন্টা জমিতে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকে । তাঁদের প্রশ্ন “কেমন করেই বা জমিতে রাত ১১টায় একজন চাষি জলসেচ করবে?”

বিজওয়াসন ক্যাম্প থেকে ১০ কিলোমিটার পথ হাঁটার পর রাস্তায় বসে জিরিয়ে নিচ্ছেন একজন কৃষক।

মহারাষ্ট্রের কোলহাপুর জেলার শিরোল তালুকের জাম্ভালী গ্রামের ৭২ বছর বয়সী কৃষক নারায়ণ ভাউ গায়কওয়াড় বাঁশি বাজাচ্ছেন ।

মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার আদিবাসী কৃষকদের একটি দল রামলীলা ময়দানে তাঁদের ঐতিহ্যবাহী গান পরিবেশন করছেন ।

ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যের জন্য নির্দিষ্ট তাঁবুতে রয়েছেন সেইসব রাজ্য থেকে আগত কৃষিজীবীরা।

আরও বেলা গড়ালে, সন্ধেবেলায় সকলে রামলীলা ময়দানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখলেন।
বাংলা অনুবাদ : স্মিতা খাটোর